বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য কি আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে? ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর নিজস্ব পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নে নতুন সুযোগের সন্ধান করছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা নিরসনে লন্ডন কীভাবে কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা নিয়ে বিশ্লষকরা নানা মত প্রকাশ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক এই সংকট কেবল একটি দেশের একক প্রচেষ্টায় সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সুসংহত সহযোগিতা এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি প্রতিটি দেশের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত আমলেও দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জ্বালানি আমদানিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। যুক্তরাজ্যসহ উন্নত অর্থনীতিগুলো এখন সবুজ শক্তির দিকে ঝুকছে, যা ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক