ইসরাইলি দখলকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করতে একযোগে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতৃত্বে নেওয়া এই উদ্যোগে আরও নয়টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের দূরত্ব আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য ও নীতিতে অন্ধ অনুসরণের যে সংস্কৃতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বজায় রেখেছিল, সেখান থেকে বের হয়ে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই নতুন পদক্ষেপ। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করে আসছিল পশ্চিমা প্রধান শক্তিগুলো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার তাগিদে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন সরাসরি ইসরাইলি নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং কানাডার যৌথ এই উদ্যোগে সমর্থন জানানো বাকি নয়টি দেশ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইসরাইলের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বসতি স্থাপনকারী উৎপাদকদের পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্যিক লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে ইসরাইলকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চায় এই জোট। এর ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক