জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক স্বাধীনতায় যেসব ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসন তা কাটিয়ে উঠতে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের কথা মাথায় রেখেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অসামঞ্জস্য ও নতজানু নীতি দেখা গেলেও, এখন পারস্পরিক সম্মান এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবং বহুপক্ষীয় সংস্থায় দেশের জোরালো ভূমিকা রাখতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন গতিশীলতা এসেছে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস না করে স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এর আগে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে যে স্থবিরতা বা একপেশে মনোভাব ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে এখন সব বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে সমান তালে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক