ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে বিক্রির জন্য দেশটির অবশিষ্ট তেলের মজুত প্রায় শেষের পথে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারের প্রধান রাজস্বের উৎস ক্রমাগত কমতে থাকায় দেশটি অর্থনৈতিকভাবে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রশাসন তেহরানকে কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করার কৌশল নিলেও ইরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মার্কিন নীতির কাছে নতি স্বীকার করার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এই জ্বালানি সংকট। পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হলেও তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নীতিতে অনড় রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানান, ইরানের অর্থনীতিতে এই অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হলেও দেশটির সরকার বিকল্প উপায়ে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে জোর দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বিভিন্ন শক্তির উত্থান-পতন দেখা গেছে। অতীতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা নিজেদের মতো করে বৈশ্বিক কূটনীতি পরিচালনা করেছেন। এ ক্ষেত্রে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা বা অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের মতো বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কূটনৈতিক কৌশলের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রবল আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও কোনো কোনো রাষ্ট্র নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার চেষ্টা করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানও ঠিক একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে বলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের বহুমুখী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরানের বর্তমান দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করে যে, কেবল অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ইরান তাদের নিজস্ব সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আগামী দিনে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক তেল বাজারের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক