সাগরে মাছের উপস্থিতি এবার বেশ ভালো রয়েছে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পটুয়াখালীর প্রায় ৮৫ হাজার নিবন্ধিত জেলের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এই দীর্ঘ সময় সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কারণে তাদের জীবিকা নির্বাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
এর আগে দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জেলেরা সবেমাত্র সাগরে ফিরেছিলেন বুকভরা আশা নিয়ে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া এবং উত্তাল ঢেউয়ের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে মাছ শিকার করতে পারেননি। এর ফলে বিগত মাসের লোকসান কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা তাদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উপক্রম করেছে। উপকূলীয় এলাকার জেলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন আয় মূলত এই সাগরের মাছের ওপরই নির্ভরশীল।
মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্যই এই ২২ দিন সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই সময়ে সরকারিভাবে জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জেলেরা। আকস্মিক এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলার হাজার হাজার জেলে পরিবার এখন চরম খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন নিষেধাজ্ঞার এই সময়টিতে জেলেদের জন্য ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয় এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। অন্যথায় এই ২২ দিনের বেকারত্ব তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের বোঝা এবং মানবেতর জীবনযাপনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক