নাটোরের বড়াইগ্রামে দীর্ঘ ২৪ বছরেও এমপিওভুক্তি না হওয়া এবং এনজিওর ঋণের বোঝা সইতে না পেরে শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী মানিক নামের এক কলেজ শিক্ষক চরম হতাশা থেকে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। মৃত শিক্ষক উপজেলার কালিকাপুর বনপাড়া কৃষি ও কারিগরি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী মানিক দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি কোনো ধরনের সরকারি বেতন-ভাতা পেতেন না। পরিবার চালানোর তাগিদে ও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে তিনি বিভিন্ন এনজিও এবং স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ঋণের কিস্তি পরিশোধের প্রচণ্ড চাপ এবং পরিবারের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়ার অপারগতা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।
ঘটনার দিন সকালে নিজ বাড়িতে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় পরিবার ও প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান স্থানীয়রা ও নিহতের স্বজনরা। তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের এমন বঞ্চনা এবং এমপিও জটিলতার অবসান না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক পরিণতি রোধ করা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তকরণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে বেতনহীন বা এমপিও বঞ্চিত শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও শিক্ষক নেতারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক