বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিসিবি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী মাহিন এম রহমান। তবে স্পর্শকাতর এই বিষয়সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে কখনই প্রকাশ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং তাদের কার্যপরিবেশ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর মাঝেই বিসিবির এই তদন্ত প্রতিবেদন এবং আইজীবীর এমন বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং নারী খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং তার যথাযথ ফলোআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরেই ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেটদের সুরক্ষা এবং তাদের হয়রানি রোধে কঠোর আইন ও মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন সচেতন মহল। অতীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিসিবির এই তদন্ত প্রতিবেদন এবং আইজীবীর বক্তব্য প্রমাণ করে যে, অভিযোগগুলো কেবল কথার কথা ছিল না, বরং এর পেছনে বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তদন্ত রিপোর্টের মূল সুপারিশগুলো অন্তত প্রকাশ করা উচিত ছিল।
আইনজীবী মাহিন এম রহমান গণমাধ্যমকে জানান, তদন্তে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর বিসিবি যথাযথ অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বিতোনামুক্ত রাখতে এবং নারী ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এই তদন্তের ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভবিষ্যতে যাতে কোনো খেলোয়াড়কে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য বিসিবিকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক