ঢাকার ধামরাইয়ে আটকের মাত্র এক ঘণ্টা পর আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত কার্যরত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ কর্মী পরিচয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে আটকের পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) এক প্রভাবশালী নেতা থানায় এসে তাকে নিজেদের দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেন। পরবর্তীতে কোনো ধরনের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের কাছে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযের অংশ হিসেবে আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, বিগত দিনে তিনি কার্যরত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং নানা অনিয়মে তার সম্পৃক্ততা ছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন কৌশলে নিজেদের রক্ষা করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন আটকের পরপরই থানায় ভিড় জমান স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। বিজেপির ওই নেতা থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছে দাবি করেন যে, আবু বক্কর সিদ্দিক যুবলীগের কেউ নন, বরং তিনি তাদের দলেরই একজন কর্মী। এই দাবির সপক্ষে কিছু কাগজপত্র ও মৌখিক তদবিরের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুপস্থিতি এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে নিয়ম মেনেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক