সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে বাইরের ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির করাকে অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লক্ষ্য করা গেছে যে, চাকুরিতে পদোন্নতি, পোস্টিং কিংবা অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার জন্য একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এমনকি ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের কিছু দোসর এবং তাদের সুবিধাভোগীরা এই ধরনের অনৈতিক তদবিরের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ ও যোগ্য প্রার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে কোনো সরকারি কর্মচারী নিজের চাকরির স্বার্থে কোনো ধরনের বাহ্যিক তদবির বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তা সরাসরি সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শীর্ষস্থানীয় নেতারা বরাবরই প্রশাসনকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করে আসছেন। তাদের মতে, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি ও পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট আমলের দুর্নীতি ও অনিয়মের জাল ভেদ করে একটি জনবান্ধব ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, কার্যরত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমমনা দলগুলোর দোসররা অতীতে যেভাবে দলীয় প্রভাবে প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্টজনেরা। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের মতো অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা যেভাবে তদবির বাণিজ্য চালিয়ে সরকারি সংস্থাসমূহে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রশাসনকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নির্দেশনার কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক