ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হবে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে তেহরান ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে চলমান নানা সমীকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পেজেশকিয়ানের এই জাতিসংঘ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বমঞ্চে ইরানের ন্যায়সংগত অধিকার এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তেহরান থেকে রওনা হওয়ার সময় দেশটির নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ইরানের সম্পর্কের নানা চড়াই-উতরাই দেখা গেছে। এর আগে দেশটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের তৎপরতা দেখা গেলেও বর্তমান প্রশাসনের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। অন্যদিকে, বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন দেশের বিতর্কিত ভূমিকার বিপরীতে ইরানের এই অবস্থান বিশ্ববাসীর নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার কিংবা কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে বাংলাদেশের তৎকালীন ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও বর্তমান সময়ে কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনটি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল বৈশ্বিক সংকটগুলো সমাধান করা সম্ভব। সফর শেষে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকেও বিশেষ নজর দেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক