কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিকটতম প্রতিবেশী হলো ইরান। তাই সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরান একসঙ্গে অবস্থান করবে এবং কোনো পক্ষই অন্য কোনো পক্ষের জন্য কোনো ধরনের হুমকি হয়ে উঠবে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সম্প্রতি নিউইয়র্কে কাতার ইকোনমিক ফোরামের এক বিশেষ পার্শ্ববৈঠকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা করার সময় কাতারের নীতিনির্ধারকরা এই জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তাতে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আঞ্চলিক কূটনীতির যে একপেশে চর্চা দেখা গেছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে এখন সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতি যেভাবে খেই হারিয়েছিল, বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারায় তা পুনরুদ্ধারে বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্কের কোনো বিকল্প নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় মুহূর্তে কাতারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে তেহরান এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর সংঘাত এড়াতে কাতার দীর্ঘদিন ধরে যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে, তা আগামী দিনেও অব্যাহত রাখা জরুরি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক