চিকিৎসকসহ তীব্র জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা এবং ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারাত্মভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। বিগত প্রায় এক যুগ ধরে এই পরিস্থিতি চললেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ৫০০ শয্যার এই গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। শুধু তাই নয়, বহির্বিভাগেও প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। অথচ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এখানকার জীবনরক্ষাকারী এমআরআই মেশিনটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমআরআই মেশিনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল চিকিৎসাসামগ্রী দীর্ঘদিন অকেজো থাকায় দরিদ্র রোগীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে এবং চর্বিযুক্ত দামে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় অনেক জটিল রোগীর রোগ নির্ণয় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের এই বেহাল দশা নিয়ে বহুবার সমালোচনা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি ফ্যাসিবাদের দোসররা লুটপাটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করে গেছে।
বর্তমানে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী রোগীরা। তারা অবিলম্বে এমআরআই মেশিন সচল করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক