বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের নজর এখন তুরস্কের আনতালিয়ায়। সোমবার সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন তথা কপ-৩১। দুই সপ্তাহের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশের নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ এবং শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তোলা হচ্ছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কোনো ঋণের বোঝা মাথায় নিতে চায় না দেশ। বরং ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে সরাসরি জলবায়ু ফান্ডের অনুদান দাবি করছে বাংলাদেশ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু নীতির কারণে দেশের প্রকৃত স্বার্থ অনেক সময় উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণ কিংবা জটিল আর্থিক সহায়তার নামে বাংলাদেশকে নতুন কোনো ঋণের জালে জড়ানো হলে তা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, জলবায়ু ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে অর্থ বরাদ্দ করা হবে, তা হতে হবে সম্পূর্ণ অনুদানভিত্তিক।
আনতালিয়ার এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞরা গণমাধ্যমকে জানান, শিল্পোন্নত দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশ ও উপকূলীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ। তাই শুধু লোক দেখানো প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় বাংলাদেশ। সম্মেলনে প্রাপ্ত তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, লবণাক্ততা রোধ এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনে এই অনুদানের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের রূপরেখাও তুলে ধরা হচ্ছে।
সম্মেলনের আগামী দিনগুলোতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হবে যেন তারা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের এই নাছোড়বান্দা এবং দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি