ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের অধিকাংশ কলেজে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতার পেছনের মূল কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল জানান, ঐতিহ্যবাহী এই জনপদের শিক্ষাব্যবস্থার এমন ধস কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের দীর্ঘ ১৫ বছরে শিক্ষা খাতের প্রতিটি স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির বীজ রোপণ করা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় আখড়ায় পরিণত করায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার হার ও মান উন্নত করার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর ছত্রছায়ার কিছু কুচক্রী মহল শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছিল। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের সমমনা চক্রের লোকজন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করায় আজকের এই ফল বিপর্যয় ঘটেছে। তবে এই দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে এলাকার শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিকদের নিয়ে একটি জরুরি মতবিনিময় সভার ডাক দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার প্রতিটি কলেজের গভর্নিং বডি এবং শিক্ষকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এমপি জামাল। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বর্তমান সরকারের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অচিরেই এই জনপদের শিক্ষার হার ও মান তার গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানে ফিরে আসবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক