সারাদেশে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিকভাবে পাসের হার কিছুটা কমলেও, দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ভোলায় বরাবরের মতো এবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে জেলার সকল কলেজকে পেছনে ফেলে ফলাফলের দিক থেকে সবার শীর্ষে অবস্থান করে নিয়েছে লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছে, যা পুরো জেলায় ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, নিয়মিত ক্লাস এবং কঠোর অভিভাবকত্বই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। অতীতেও এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় নিজেদের সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছিল। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্টজনেরাও এই সাফল্যের জন্য কলেজটির পরিচালনা পর্ষদ এবং শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময়কার শিক্ষানীতির কারণে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও তাদের মান ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছিল। এমনকি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবে শিক্ষাখাতে দলীয়করণের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়ন করার দাবি দীর্ঘদিনের। বর্তমানে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে শিক্ষাখাত একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
এদিকে লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই সাফল্যের খবরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। কলেজ প্রাঙ্গণে মিষ্টি বিতরণ এবং একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ উদযাপন করতে দেখা যায় তাদের। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই আজ এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে এবং এই ধারা অব্যাহত রাখতে তারা সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। ভোলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক