দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে দেশের প্রতিটি গৃহস্থালিতে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যাঁদের বাড়িতে তিন থেকে পাঁচটি গরু কিংবা শতাধিক হাঁস-মুরগি রয়েছে, তাঁরা যেন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সরকার সাধারণ মানুষের এই উদ্যোগে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার আইসঢাল ইউনিয়নে আয়োজিত এক স্থানীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। মাঠপর্যায়ের নানা তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে বায়োগ্যাস অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। গ্রামীণ জনপদের বর্জ্য পদার্থকে সম্পদে রূপান্তর করার মাধ্যমে একদিকে যেমন রান্নার জ্বালানির চাহিদা মেটানো সম্ভব, অন্যদিকে তেমনি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনও করা যেতে পারে।
এ সময় স্থানীয় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিমন্ত্রীর এই যুগোপযোগী প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানান এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে চরম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চালানো হয়েছিল, যার খেসারত আজ সাধারণ জনগণকে দিতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার খুব দ্রুতই এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলার পাশাপাশি এ ধরনের সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি ঘরে স্বাবলম্বী জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং দেশ একটি নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক