যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে সংলাপ শুরুর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না তেহরান। এ অবস্থায় ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিগত বছরগুলোতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে নানা বিতর্কিত সমীকরণ থাকলেও বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তেহরান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারগুলো আরও বেশি সতর্ক। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর জোরালো ভূমিকা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে এবং কূটনৈতিক সংলাপ সফল করতে তেহরান যেমন সচেষ্ট, তেমনি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতেও তারা সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি কোথায় গিয়ে ঠেকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক