জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে ভবিষ্যতে দেশে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরুত্থান ঠেকাতে ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি এক বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা যেভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি রোধ করা আজ সময়ের দাবি। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সেই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না।
বিশেষ করে, বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্যান্য দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনেরা গণমাধ্যমকে জানান যে, বিগত দিনে সংবিধানে একচ্ছত্র ক্ষমতার যে চর্চা রাখা হয়েছিল, তার সংশোধন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
আলোচনায় আরও উঠে আসে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক চিন্তা আজ দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে। তাদের দিকনির্দেশনা ও ত্যাগের ফলেই আজ দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছে।
পরিশেষে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, তরুণ প্রজন্মের রক্তে ভেজা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো তৈরি করতে হবে, যেখানে আর কখনো কোনো স্বৈরাচারের জন্ম নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক