বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক শিল্প ও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার জাপানি পরিকল্পনায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও বন্দর ব্যবহার করে ভারতের ওই অঞ্চলের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রসারের যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপանի এই মাস্টারপ্ল্যানের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, জাপানি অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত মাতারবাড়ী বন্দর কেবল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেই ভূমিকা রাখবে না, বরং এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং জাপান এই অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে পারবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ভারতীয় নীতিনির্ধারক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ভারত তাদের কৌশলগত নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রেখে এই প্রকল্পের প্রতিটি পদক্ষেপে গভীর নজর রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হয়নি এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বকীয়তা বজায় রেখে যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যেসব অসম চুক্তি বা বোঝাপড়া হয়েছিল, তার চুলচেরা বিশ্লেষণ এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে কার্যকরভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে জাপানের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ ও ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক