বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিবন্ধনহীন সাব-এজেন্টদের মাধ্যমে প্রতারণার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অথচ সাধারণ কর্মীদের জন্য এসব সাব-এজেন্টের পরিচয় যাচাইয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। সাব-এজেন্টদের সঠিক তথ্য জমা দেওয়ার সফটওয়্যার ব্যবস্থাও এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে সাব-এজেন্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর গ্রেডিং বা মান নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
অভিবাসন খাতের বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এই খাতের বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছিল। বর্তমানে দেশের শ্রমবাজারকে নিরাপদ ও দালালমুক্ত করতে হলে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। সম্প্রতি দেশের জনশক্তি রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে বিভিন্ন মহล থেকে সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমের ওপর কঠোর তদারকি না থাকায় অনেক সময় কর্মীরা বিদেশে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে আরও বেশি proactive বা সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সাব-এজেন্টদের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসে তাদের লাইসেন্স বা নিবন্ধনের আওতায় আনা গেলে প্রতারণার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সাথে কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রচার চালানো প্রয়োজন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক