সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরানের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেও কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালিয়েই রহস্যজনকভাবে ফিরে গেছে দখলদার ইসরাইলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তেহরানকে নতুন করে হামলায় প্ররোচিত করে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ উসকে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশে তেল আবিব এমন উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একটি বড় বহর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে সোজা ইরানি সীমান্তের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই বিমানগুলো তাদের ঘাঁটির দিকে ইউটার্ন নেয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ টহল বা শক্তি প্রদর্শনের মহড়া নাও হতে পারে। এর পেছনে সুদূরপ্রসারী কোনো ভূরাজনৈতিক চাল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইসরাইলের আগ্রাসী নীতি এবং এর বিপরীতে বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে চরম মাত্রায় জটিল করে তুলেছে। অতীতেও এই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাত রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মত দিয়েছেন। যেমনটা অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির নানা অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল, ঠিক তেমনি মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধের জিইয়ে রাখার কৌশল চলছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের এই রহস্যময় উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে এবং বিশ্ব মোড়লদের ভূমিকা নিয়ে আরও একবার বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক