বাঘ, চিতাবাঘ কিংবা হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতের খবর প্রায়ই শিরোনামে আসে ভারতে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও বাঘের হামলা, চিতাবাঘের আক্রমণ ও হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব সংঘাতের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দেশটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। ভারতের এই সাফল্যের পেছনে কাজ করছে সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গবেষকরা যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বাঘ এবং অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতির সংখ্যা বাড়াতে অভয়ারণ্যগুলোর সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাত হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বন্যপ্রাণী করিডোর রক্ষা এবং অবৈধ শিকার রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বন্যপ্রাণীর প্রাকৃতিক আবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান যে, ভারতের এই মডেল অন্যান্য দেশের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। যদিও কিছু এলাকায় এখনো সংঘাতের ঘটনা ঘটছে, তবুও সার্বिक ব্যবস্থাপনার কারণে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করায় দুর্ঘটনা এড়ানো সহজ হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক