উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম বয়সী তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে গুরুতর আইনি ফাঁদে পড়ছেন বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ও কেয়ার কর্মীদের কেউ কেউ। ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বয়সের তথ্য গোপন করে বা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সম্পর্কে জড়ানোর কারণে এই আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন ও ক্যারিয়ারকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশের মাটিতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত জীবনই ধ্বংস করছে না, বরং সমগ্র প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।
যুক্তরাজ্যের কঠোর আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে রয়েছে জিরো টলারেন্স নীতি। অথচ সচেতনতার অভাব এবং সঠিক আইনি জ্ঞান না থাকায় অনেক বাংলাদেশি তরুণ ও কর্মীরা না বুঝে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ভিসা বাতিলসহ দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সম্প্রতি বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রশাসন বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এবং কেয়ার কর্মীদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি নেতারা। তারা গণমাধ্যমকে জানান, প্রবাসে টিকে থাকতে হলে স্থানীয় আইন-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত এবং যেকোনো ধরনের বিতর্কিত ভার্চ্যুয়াল সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা জরুরি। এছাড়া, যুক্তরাজ্যে আসার পর নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং আইনি সচেতনতামূলক কর্মশালা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের তরুণ সমাজ এই ধরনের মারাত্মক আইনি ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক