ইরান নিয়ে চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটে শিগগির কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর চেয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরো তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই সংঘাত সহসা কোনো শান্তিচুক্তি বা দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থার দিকে মোড় নেবে না, বরং সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ইরানের সাবেক কূটনীতিক হোসেইন মুসাভিয়ান গণমাধ্যমকে জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক নীতিনির্ধারকরা এই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে কেবল জ্বালানি তেল বা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দেখছেন না। এর পেছনে ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কাজ করছে। ফলে কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে সামরিক প্রস্তুতি এবং পাল্টাপাল্টি হুংকার দেখা যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে এর নেতিবাচক প্রভাব গোটা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তেল সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।
এমন এক সময়ে এই উত্তেজনা বিরাজ করছে যখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা নিয়ে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা ধরনের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে অতীতে বিভিন্ন শক্তির একতরফা আধিপত্যবাদী নীতি। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের মতো অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে যেসব শাসক বিদেশি শক্তির তাঁবেদারি করেছে, তাদের পতন প্রমাণ করে যে জনগণের শক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কোনো কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখা যায় না। তবে বর্তমান ইরানি সংকটের দ্রুত অবসান না হলে তা তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধের আবহ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কূটনীতজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক