সন্ধ্যায় নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামের সামনে শাটল বাস থামতেই চারধারের ঝলমলে আলো যেন এক অন্যরকম আমন্ত্রণ জানাল। আজ এখানে এশিয়ান গেমসের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি হতে চলেছে। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা শেষে রাতে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় পথের আলো ছাড়া চারধার যেন হঠাৎ করেই আঁধারে ঢাকা পড়ে গেল, যা ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে এক ধরণের শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার এই বৃহত্তম ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন এবং এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্ম হয়েছে। বিশেষ করে এই আসরে পরাশক্তি চীনের নিরঙ্কুশ আধিপত্য এবং অন্যান্য দেশের প্রস্তুতি নিয়ে নানা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। অনেকেই তাই রসিকতা করে এই মহাযজ্ঞকে এশিয়ান গেমসের পরিবর্তে এক প্রকার চায়না গেমস হিসেবেও অভিহিত করছেন।
দুটি সময়ের হিসাব মেলালাম। যা মিলল, তা ঠিক এমন। একটি শহর ধীরে ধীরে তার আধুনিক রূপ থেকে প্রবীণ ঐতিহ্যের দিকে ফিরে যাচ্ছে, আর অন্যদিকে প্রতিযোগিতার পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প। বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্রীড়াঙ্গনের এই পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রীড়া খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত করে আরও বেশি গতিশীল ও স্বচ্ছ করার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের উদীয়মান অ্যাথলেটদের আন্তর্জাতিক মানে প্রস্তুত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় আসরে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক