সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কি পুনরায় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে? বর্তমান ভূরাজনীতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার অবস্থাদৃষ্টে সে রকম জোরালো ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে যাওয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী মনসুর বিন জায়েদ সৌদি যুবরাজের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। অতীতে ইয়েমেন যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক তেল উৎপাদন নীতির মতো কিছু সংবেদনশীল ইস্যুতে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বই দূরত্ব কমিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানান যে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কেবল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যয়ন এবং জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে সৌদি আরব ও আমিরাতের যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহির্বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বের এই দুই প্রভাবশালী দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি ছিল। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ভুলে এই দুই মিত্র দেশের হাত ধরাধরি করে পথ চলার ঘোষণা কেবল তাদের নিজেদের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারা আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক