উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ মরক্কোর একটি প্রাচীন শহরের নাম ‘ফেজ’। পাহাড়ঘেরা শহরটির রাস্তাগুলো এতটাই সরু ও আঁকাবাঁকা যে, সেখান দিয়ে ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচল করতে পারে না। ফলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য গাধা এবং গরুর গাড়িই বাসিন্দাদের প্রধান ভরসা। পাহাড়িপথ ধরে মূল শহরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন।
খ্রিস্টীয় ৮৫৯ সালে মরক্কোর এই প্রাচীন শহরে ফাতিমা আল-ফিহরি নামের এক বিদুষী নারী প্রতিষ্ঠা করেন আল-কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়। এটি কেবল মরক্কো কিংবা আফ্রিকা মহাদেশেই নয়, বরং ইউনেসকো এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী বিশ্বের প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্নভাবে সচল ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং বিজ্ঞান সাধনার এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করে।
ঐতিহাসিক এই বিদ্যাপীঠটি শত শত বছর ধরে হাজার হাজার পন্ডিত, দার্শনিক এবং গবেষক তৈরি করেছে। এর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে দুর্লভ সব হস্তলিপি ও প্রাচীন গ্রন্থ, যা মানবসভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। আধুনিক যুগেও এর গুরুত্ব ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে শিক্ষার প্রসারে মুসলিম নারীদের ঐতিহাসিক অবদানের এক উজ্জ্বল সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক