বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বা ক্লাসের প্রতি বিমুখতা বা অনাগ্রহ বর্তমান সময়ে একটি বড় চিন্তার বিষয়। এটি হুট করে তৈরি হয় না, বরং এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গভীর পারিবারিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কারণ। ধাপে ধাপে এই সংকট ঘনীভূত হয় এবং শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় এই সমস্যাটি দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
প্রথমত, পারিবারিক অসচেতনতা এবং আর্থিক সংকট মফস্বলের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়বিমুখ করার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অনেক পরিবারে বাবা-মা সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খান। এর ফলে অপ্রাপ্ত বয়সেই শিক্ষার্থীদের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। এছাড়া, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও অনুপ্রেরণার অভাবও তাদের মনস্তত্ত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং গতানুগতিক শিক্ষাদান পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে এবং শিক্ষকদের মধ্যেও আকর্ষণীয় ও আনন্দদায়ক পাঠদানের কৌশলের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে স্কুল মানেই এক ধরনের একঘেয়েমি ও ভয়ের জায়গা হিসেবে পরিগণিত হয় শিক্ষার্থীদের কাছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষকদের আরও বেশি বন্ধুসুলভ ও শিক্ষার্থীবন্ধু মনোভাবাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উপবৃত্তি বা আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে হবে। শুধু তা-ই নয়, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম জোরদার করে বিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক