পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ ২৪টি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পর টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এসএম মজিবুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে বিদ্যালয়ের তহবিলের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া এবং নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতিতে তিনি জড়িয়ে পড়েন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে তিনি একক মতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বিশিষ্টজনরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের অপসারণ এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। এর আগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনেকে নানা অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা অতীতে শিক্ষাখাতকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক