পাবনায় ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা এবং কক্সবাজারে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই শিশু অপ্রতিমের হৃদয়বিদারক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব একের পর এক নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটাসে শায়খ আহমাদুল্লাহ এই বর্বরোচিত ঘটনাগুলোর কঠোর সমালোচনা করে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে লিখেছেন, এ ভূখণ্ড কি তবে সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমান্বয়ে সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে? এই প্রশ্নটি বর্তমান সমাজের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতি এক তীব্র আঙুল তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলা এসব নৃশংস অপরাধের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারহীনতার সংস্কৃতি দায়ী বলে মনে করছেন বিশারদরা। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত বছরগুলোতে অপরাধীদের টিকিটি ছোঁয়া হতো না, যার ফলে অপরাধের মাত্রা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সাথে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের ক্যাডার বাহিনী যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতো, তার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (নসিপি) শীর্ষ নেতৃবৃন্দও এসব লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ আশা করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব দ্রুত এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করে দেশে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক