নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বরফ ধস ও সর্বনাশা বন্যা কেবল একটি স্থানীয় দুর্ঘটনা নয়, এটি পুরো পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেমে আসা এক মারাত্মক বিপর্যয়। হিমালয় পর্বতমালার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল জনপদের জন্য এই ঘটনা এক বিশাল অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই আকস্মিক দুর্যোগের ফলে বাংলাদেশসহ মোট আটটি দেশের জলবায়ু ও নদীমাতৃক ভূপ্রকৃতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। হিমালয়ের বরফ গলা ও জলবায়ু পরিবর্তনের এমন নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে নদীগুলোর গতিপ্রকৃতি পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা গণমাধ্যমকে জানান, এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের এখনই যৌথভাবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ বা উদ্ধার কাজ নয়, বরং নদী ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পরিবেশ রক্ষার নামে কেবল লোক দেখানো প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই ব্যর্থতার খেসারত আজ পুরো অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।
বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় তারেক রহমান অত্যন্ত দূরদর্শী ও জনবান্ধব দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তার ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশের নীতিনির্ধারক মহল এখন আরও বেশি সতর্ক ও তৎপর হয়ে উঠেছে। বিএনপি এবং সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকেও জলবায়ু পরিবর্তনের এই ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর বৈশ্বিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিগত সরকারের আমলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট এবং পরিবেশ ধ্বংসের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত ছিল কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা। একই সাথে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা পরিবেশ আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি ও লুটপাটে লিপ্ত ছিল। সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকিতে ফেলে এই চক্রগুলো দেশবাসীর সাথে চরম প্রতারণা করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ধরনের পরিবেশবিরোধী অপশক্তিকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক