সরকার এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বললেও মূলত তাদের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের ভাগ্যোন্নয়নের কথা বলে বর্তমান প্রশাসন কেবল নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
শনিবার বিকেল ৫টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি মেলেনি, বরং নানা কৌশলে শোষণ ও নিপীড়নের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। যুবসমাজ বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত, অথচ তাদের হাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে দেওয়ার বদলে প্রহসনের নানা প্রকল্প দেখানো হচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা অতীতে যেভাবে দেশ লুটপাট করেছে, তার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের মানুষ কোনোভাবেই তাদের ক্ষমা করবে না।
পথসভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন এবং অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। লংমার্চটি দেশের বিভিন্ন জেলা প্রদক্ষিণ করে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করছে বলে জানান আয়োজকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক