কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে (১৩) আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এবং শিক্ষকমহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত অপ্রতীমের পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারা এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কিশোরের একটি আইফোন ছিল এবং সেটি পাওয়ার জন্যই তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রযুক্তিগত তদন্ত সম্পন্ন হলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।
এদিকে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া এক বাণীতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছিলেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি, রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কার্যত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক