রাজধানীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে যাতে এক সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির পর আরেকটি সংস্থা একই সড়কে পুনরায় কাজ না করে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের জনভোগান্তি ও তীব্র যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্প্রতি সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে জানান, নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করতে এবং মেগা প্রকল্পগুলোর কাজের গতিশীলতা বজায় রাখতে সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়ার কারণে প্রতিদিন নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে এবং অপরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের কষ্ট লাঘব করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসকো, তিতাসসহ সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে একসঙ্গে বসে একটি সমন্বিত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যেন সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কাজের তদারকির জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনেরও প্রস্তাব এসেছে এই বৈঠকে। কোনো সংস্থা এককভাবে রাস্তা খুঁড়তে চাইলে এখন থেকে নগর কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যৌথ সভা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জনস্বার্থে নেওয়া এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক