পদদলিত করতে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বা ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি লাগিয়েছেন একদল সাধারণ শিক্ষার্থী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শক্তির দোসর এবং সাম্প্রদায়িক মতাদর্শের প্রচারকদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত করার বার্তা দেওয়া।
শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে জানান যে, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের ছবি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যাতে আসা-যাওয়ার পথে যে কেউ তা পদদলিত করতে পারেন। তাঁরা মনে করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তি এবং একাত্তরের গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্মারক বা ছবি জাতির জন্য চরম লজ্জার।
এই ঘটনার পেছনে আরও পটভূমি রয়েছে যা বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে এই বিতর্কিত ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্র আন্দোলনে রক্তদানের পর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচি ক্যাম্পাসে ঐতিহাসিক সত্যের পুনঃমূল্যায়ন এবং তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক চেতনার এক নতুন বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মূলত দেশের স্বাধিকার আন্দোলন এবং একাত্তরের মূল চেতনাকে সমুন্নত রাখার পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক