ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া বিশেষ নৈশভোজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে শি জিনপিং কেন এই গুরুত্বপূর্ণ নৈশভোজে যোগ দিলেন না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার ছায়া এই সম্মেলনেও পড়তে পারে। যদিও উভয় দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বড় অসন্তোষের কথা প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজে শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ব অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দুই এশীয় পরাশক্তির সম্পর্কের শীতলতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও গবেষকদের নতুন ভাবনায় ফেলেছে।
ব্রিকস সম্মেলনের মূল এজেন্ডাগুলোতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরালো করার ওপর জোর দেওয়া হলেও, পার্শ্ববৈঠক এবং কূটনৈতিক অনুপস্থিতিগুলোই অনেক সময় মূল খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। ভারতের মাটিতে আয়োজিত এই নৈশভোজে চীনের রাষ্ট্রপতির না যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাকেই স্পষ্ট করে তোলে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্কের বরফ গলতে কত সময় লাগবে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতে কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক