রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

ব্রিকসের দিল্লি ঘোষণা: প্রত্নসম্পদ ফিরবে নিজ দেশে

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণা ২০২৬-এ সদস্য দেশগুলোর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন, প্রত্নসম্পদ এবং আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন অমূল্য সাংস্কৃতিক স্মারকগুলো তাদের স্ব স্ব মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা ঔপনিবেশিক আমল কিংবা অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া এসব প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পুনরুদ্ধারে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর বা ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত রয়েছে। অনেক দেশ তাদের অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল। ব্রিকস জোটের এই নতুন ঘোষণার ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক কূটনীতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং লুণ্ঠিত বা পাচার হওয়া প্রাচীন নিদর্শনগুলো আইনি ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নিজ নিজ দেশে ফেরত দেওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রত্নসম্পদ উদ্ধারই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

ব্রিকসের এই ঘোষণার সুফল বাংলাদেশসহ এই জোটের আওতাভুক্ত এবং এর বাইরে থাকা উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রাচীন ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারেও পরোক্ষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দুঃশাসনের সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রক্ষায় চরম উদাসীনতা ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বহু অমূল্য সম্পদ বিদেশে পাচার বা অবমূল্যায়নের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ধরনের উদ্যোগ দেশের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সম্মেলনের শেষাংশে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা পারস্পরিক আস্থা ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে একটি যৌথ ইশতেহারে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, আগামী দিনে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, প্রাচীন পান্ডুলিপি সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলো যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে প্রতিটি জাতির সুপ্রাচীন ইতিহাস ও কৃষ্টির প্রকৃত রূপ তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD