পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে সাংবাদিকদের বলেছেন যে, বাম এবং বর্তমান তৃণমূল সরকার এই রাজ্যের প্রাচীন সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে পরিকল্পিতভাবে দমন করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। অতীতে বাম শাসনামলে ধর্মকে অবমূল্যায়ন করে বলা হতো এটি আফিমের সমান, আর বর্তমান শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গকে একটি বৃহত্তর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার গোপন এজেন্ডা নিয়ে এগোচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন যে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবং তার প্রভাব এ রাজ্যে কীভাবে পড়ছে, সে বিষয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের দূরভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ড রাজ্যের সার্বভৌমত্ব এবং এখানকার সনাতনী সমাজের টিকে থাকার লড়াইকে কঠিন করে তুলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরনের মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সেখানে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কিংবা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন পরবর্তী আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ছাড়াও এই ঘটনার রেশ ধরে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য যে, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে এই ধরনের মন্তব্য বারবার উঠে এসেছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য রাজ্যজুড়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং শাসক দলের পক্ষ থেকেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্যবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক