মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক পাহারাদার হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তেহরানের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা স্থানীয় দেশগুলোই পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে সক্ষম। বাইরের কোনো শক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে কেবল বিঘ্নিতই করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার কারণে প্রায়শই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। হরমুজ প্রণালী ও আশেপাশের জলসীমায় ওয়াশিংটনের সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তেহরান সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। অতীতে বিভিন্ন সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে বিদেশি শক্তির অযাচিত প্রভাবের বিষয়টি সমালোচিত হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ইরানের এই শক্ত অবস্থান ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক