পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং নবী ও সাহাবিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগ তুলে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে প্রকাশ্যে তওবা করার অনুরোধ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইসলাম ধর্ম ও এর মৌলিক আকিদার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে মাওলানা সাদের কিছু বক্তব্য নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মাওলানা সাদের অনুসারী এবং তাবলিগ জামাতের বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব নিরসনে দেশের আলেম-ওলামারা বারবার আলোচনার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তবে হেফাজত আমিরের এই নতুন হুঁশিয়ারির পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলামি শরিয়তের মৌলিক বিষয়গুলো বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে শীর্ষস্থানীয় এই আলেম বলেন, তওবা করে সঠিক পথে ফিরে না এলে দেশের তৌহিদি জনতা তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
উল্লেখ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বক্তা ও আলেমদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে আলেম-ওলামাদের ওপর নানা ধরনের দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার এবং তাদের সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ ইসলামপন্থী দলগুলোর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সব মহলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাবলিগ জামাতের ইজতেমা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যকার এই মতপার্থক্য দূর করতে সরকারিভাবে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় উগ্রতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। হেফাজতে ইসলামের আমির তার বক্তব্যে দেশের সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে শান্ত থাকার এবং যেকোনো উসকানিমূলক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক