অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২৭১ কোটি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, পরোক্ষ ধূমপান বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি নীরব ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত হাজার হাজার তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই মৃত্যুর মিছিলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে নারী এবং শিশুরা। ঘরের ভেতরে এবং কর্মক্ষেত্রে ধূমপায়ীদের কারণে নির্গত ধোঁয়া প্রত্যক্ষ ধূমপায়ীদের চেয়েও আশপাশের মানুষগুলোর জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রমাণিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা যারা নিজেদের সুরক্ষায় অক্ষম, তারা এই বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস এবং হাঁপানিসহ নানা জটিল শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শৈশবেই পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়া শিশুরা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের সমস্যায় ভোগে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরোক্ষ ধূমপান রোধে সামাজিক সচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই। পাবলিক প্লেস, অফিস-আদালত এবং গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করার আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে ধূমপান ত্যাগের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মরণব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। অন্যথায় পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর এই গ্রাফ আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক