আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন না থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে এবং স্থানীয় স্তরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়াতে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করতে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে থাকা বিএনপি এবার স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত করতে চায়। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলের পাতানো ও একতরফা নির্বাচন বর্জনের পর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে, বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিদের বিজয়ী করে আনতে বিএনপি এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে কোন্দল দূর করে জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের একক প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণও মুখিয়ে আছে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ।
নির্বাচনী মাঠে কার্যকর ভূমিকা রাখতে দলের শীর্ষ নেতারা প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং জনমত গঠনে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর অপতৎপরতা রুখে দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লড়াইয়ে বিএনপি সবসময় রাজপথে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক