নারী ও পুরুষের সন্তান ধারণের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে ধূমপান। এর পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য তীব্র ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তামাক সেবনের সঙ্গে নারীদের বন্ধ্যত্ব এবং পুরুষদের শুক্রাণুর গুণগত মান ও যৌন সক্ষমতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের গভীর সম্পর্কের কথা সম্প্রতি এক নতুন পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণায় এই আশঙ্কাজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। চিকিৎসক ও গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, তামাকের বিষাক্ত ধোঁয়া মানবদেহের প্রজননতন্ত্রকে সরাসরি আক্রমণ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের প্রভাবে নারীদের ডিম্বাণুর মান দ্রুত deterioration বা অবক্ষয়ের শিকার হয়, যা পরবর্তীতে গর্ভধারণের পথকে কঠিন করে তোলে। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে নিকোটিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ শুক্রাণুর সংখ্যা এবং গতিশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করে। এর ফলে দম্পতিদের সন্তান লাভে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকি যারা সরাসরি ধূমপান করেন না, কিন্তু নিয়মিত ধূমপায়ীদের সংস্পর্শে আসেন বা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন, তারাও এই একই স্বাস্থ্য ঝুঁকির বাইরে নন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তরুণ সমাজকে ধূমপানের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দেশজুড়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই নয়, বরং সামাজিকভাবে ধূমপান বর্জন করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহлের পক্ষ থেকেও তামাকবিরোধী আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক