হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে একটি তীব্র বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনতা ও বিভিন্ন অধিকার কর্মীরা। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ যুদ্ধে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে সিউলের রাজপথে সমবেত হন এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তাদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে বিদেশি কোনো অপ্রয়োজনীয় বা বেআইনি যুদ্ধে জড়ানো দেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যাতে তারা মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে শান্তি ও কূটনীতির পথ বেছে নেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নানা সমীকরণে এ ধরনের গণপ্রতিরোধ দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভূমিকা অপরিসীম। মার্কিন প্রশাসন এই জলপথের সুরক্ষার অজুহাতে মিত্র দেশগুলোকে সামরিক জোটে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এর বৈশ্বিক নেতিবাচক প্রভাব ও তেলের বাজারের অস্থিরতার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা এর বিরোধিতা করে আসছে। সিউলের এই বিক্ষোভ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এ বিষয়ে কী ধরনের কূটনৈতিক অবস্থান নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক