শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের পুরাতন জেলখানা রোডসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম দীর্ঘ ১০ বছর ধরে জর্দার কৌটায় তিল তিল করে টাকা জমিয়েছিলেন। অভাবের সংসারে একটু সচ্ছলতা আনার আশায় এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি এই ব্যতিক্রমী উপায়ে সঞ্চয় করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করে সেই কৌটা খুলে তার চোখ কপালে ওঠে। তিনি দেখতে পান, ভেতরে জমানো সব কাগজের নোট পোকায় কেটে এবং স্যাঁতসেঁতে হয়ে পুরোপুরি নষ্ট করে ফেলেছে। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এভাবে নিমিষেই শেষ হয়ে যাওয়ায় হতদরিদ্র মনোয়ারা বেগমের সমস্ত স্বপ্ন এখন চুরমার হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগম অত্যন্ত সাধ করে প্রতিদিনের খরচের টাকা থেকে বাঁচিয়ে এই জর্দার কৌটায় কয়েন ও নোট জমা করতেন। কিন্তু পর্যাপ্ত অসচেতনতা এবং সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের অভাবের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এমন সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর সমবেদনার সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকদের কাছে নিজের এই কষ্টের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই নারী।
এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং বা নিরাপদ মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আরও গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। দীর্ঘ ১০ বছরের এই দীর্ঘশ্বাস এবং কষ্টের সঞ্চয় হারানোর পর মনোয়ারা বেগম এখন চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখে পড়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি এই দুর্দিনে তার পাশে এসে দাঁড়ান, তবে হয়তো তিনি কিছুটা হলেও এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক