জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী আলোচনা চলাকালীন মন্ত্রীদের আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্য যখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বেঞ্চে বসে উচ্চস্বরে কথা বলছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মন্ত্রীদের এমন অনমনীয় ও অসচেতন আচরণে অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং বক্তার মনোযোগ ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি অত্যন্ত সংযত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে মন্ত্রীদ্বয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, আস্তে কথা বলুন প্লিজ। ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রতিটি সদস্যের কথা বলার অধিকারকে সম্মান জানানোর তাগিদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বিরোধী ও সরকার পক্ষের সমান সুযোগ, যা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় সংসদে মন্ত্রীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। যখন সংসদের ফ্লোরে কোনো সম্মানিত সদস্য বক্তব্য রাখেন, তখন মন্ত্রীদের নীরব থেকে তা শোনা এবং নোট নেওয়াটাই প্রচলিত নিয়ম। এই ঘটনার পর সংসদীয় অঙ্গনে মন্ত্রীদের আচরণ এবং শিষ্টাচার নিয়ে নতুন করে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও বেশি কার্যকর ও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক