প্রযুক্তির সহায়তায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে আসছিল একটি চক্র। বিশেষ করে বি কোম্পানি নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম হাসিবুর রহমান ফরাজী হাসিব খান, যার বয়স ২৩ বছর।
সম্প্রতি খুলনার ব্যবসায়িক ও সাধারণ মহলে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল এই চক্রটি। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে আসছিল তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অবশেষে চট্টগ্রামের একটি গোপন স্থান থেকে অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয় কেএমপির গোয়েন্দা দল।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অতীতে আইনশৃঙ্খলা অবনতির পেছনে কতিপয় রাজনৈতিক দলের দুর্বৃত্তায়নের অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর নির্দেশনায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এমনকি কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন সুবিধাভোগী ও তাদের মদদপুষ্ট নামসর্বস্ব সংগঠনের অপতৎপরতা রোধেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের জানান হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুলনার সাধারণ মানুষ এই সফল অভিযানের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক