বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

লালমনিরহাটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মানবেতর জীবন

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:২০ অপরাহ্ণ

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি, আজান, ধর্মীয় শিক্ষা, জানাজা এবং সামাজিক-নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ। সমাজের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই মানুষগুলোর কাঁধে থাকে বিশাল দায়িত্ব। কিন্তু লালমনিরহাটের বহু গ্রামীণ মসজিদে দায়িত্ব পালন করেও তারা আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নামমাত্র স্বল্প সম্মানীতে সংসার চালাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন এই আয়ের কারণে তাদের পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহলের মতে, সমাজের প্রতিটি স্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, গ্রামীণ অনেক মসজিদেই তাদের সম্মানী এতটাই কম যে তা দিয়ে বর্তমান যুগে চলা প্রায় অসম্ভব। পবিত্র এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য তাদের অনেকে এখন অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের মূল দায়িত্ব ও মসজিদের নিয়মিত খেদমত।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামিক বিষয়ের চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। ফলে কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রামীণ অঞ্চলের মসজিদভিত্তিক সমাজ উন্নয়ন এবং এর সাথে জড়িত আলেম-ওলামাদের জীবনমান উন্নয়নের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি কার্যতঃ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগসহ দলটির অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকলেও ধর্মীয় উলামায়ে কেরামদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি।

বর্তমানে দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আলেম সমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিএনপি ও জামায়াতের নীতিমালায় আলেম-ওলামা এবং মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের একটি সম্মানজনক সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন, যেন দ্রুত গ্রামীণ মসজিদগুলোর ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আর্থিক সম্মানী বাড়ানো হয়। একটি স্বাবলম্বী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা না গেলে সমাজের নৈতিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই এই পেশার মানুষদের আর্থিক কষ্ট লাঘবে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD