রাশিয়ার একজন মন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র অসন্তোষ ও নানা মতবিরোধের মধ্যেই দুই দিনের জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে নানা ধরনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট ছিল। তবে যাবতীয় মতপার্থক্য পেরিয়ে বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে চীন ছাড়া প্রায় প্রায় সব দেশই পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে এই যৌথ ঘোষণাপত্র একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈঠক চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, এই আয়োজনে রাশিয়ার একজন মন্ত্রীর উপস্থিতি মূল আলোচনা বা কার্যক্রমে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। মার্কিন প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে। ইউক্রেন সংকট ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন অবস্থান থাকলেও অর্থমন্ত্রীদের এই বৈশ্বিক মঞ্চে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধার এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পেয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বহুমুখী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হলেও, জি-২০ এর এই বৈঠক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ডেস্ক রিপোর্ট