চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সারা দেশে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্য ও মাঠপর্যায়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। নারী ও শিশুদের ওপর এই ধরনের সহিংসতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এই পরিসংখ্যান কিছুটা ওঠানামা করলেও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতায় চারজন নিহত এবং ৫২৭ জন আহত হয়েছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের রেখে যাওয়া বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর নানা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এই রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনাগুলো ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মাঠের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও কার্যকর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের বিভিন্ন গোপন তৎপরতা ও নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে।
শনিবার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি এইচআরএসএস প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এই বিশদ চিত্র উঠে এসেছে। গণমাধ্যমকে দেওয়া তথ্যে সংগঠনটি জানিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক